এলডিসি উত্তরণ: সময় নয়, প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—তথ্যমন্ত্রী

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ বিকাল
  • ২১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য বর্ধিত সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ সামনে থাকলেও এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণের বিকল্প নেই।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও রপ্তানিমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তাই সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময়কে শুধু সময়ক্ষেপণের সুযোগ হিসেবে নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, সরকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ প্রক্রিয়া সফল হলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে এই সময়কে রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অর্থনীতিবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয় অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তিত কাঠামো ও আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে এগোতে হবে। এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতায় যেসব নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে, সেগুলো মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

মন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’-তে প্রায় ১৫৭টি সুপারিশ রয়েছে। দেশের বাস্তবতার আলোকে এসব সুপারিশ মূল্যায়ন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি বাজারে তুলনামূলক কম চাপ থাকলেও অন্যান্য প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই শুধু সময় বৃদ্ধি নিশ্চিত করাই নয়, সেই সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ এবং র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad