যুদ্ধের দামামা থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে সক্রিয় কাতার, সৌদি ও পাকিস্তান

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ দুপুর
  • ১৫৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর—এই পাঁচটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সক্রিয় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার এসব দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফা টেলিফোনে আলোচনা করেন। মধ্যস্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথম লক্ষ্য হলো দুই পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা কমাতে রাজি করানো এবং পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের নতুন বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলাপকালে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, তাদের মূল্যায়নে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন কিছু কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর কাজ, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ব্যাহত করতে এবং উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে চায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছিল। তাই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো সেই অগ্রগতিকে ধরে রাখতে এবং আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়া ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। এরপর তিনি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দুই দফা বিমান হামলার নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোর পক্ষেও অবস্থান ব্যক্ত করেন।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই রাত ইরানে বিমান হামলা চালায়। পরে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আগের দুই দিনের তুলনায় কিছুটা শান্ত ছিল বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, সেদিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি। তাদের ভাষ্য, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই পরিস্থিতিতে সাময়িক স্থিতিশীলতা এসেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইরান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস ও টার্কি টুডে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad