ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী বলেছেন, কওমি মহিলা মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে অসত্য তথ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা কিংবা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার কোনো অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নারী শিক্ষার উন্নয়নে মহিলা মাদরাসার অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা, বৃত্তি প্রদান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কওমি মহিলা মাদরাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই এ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে বাস্তবভিত্তিক ও দায়িত্বশীল তথ্য উপস্থাপন করা সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া লিলবানাত বাংলাদেশ (বাংলাদেশ কওমি মহিলা মাদরাসা ঐক্য পরিষদ)। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও রাজধানীর গোলাপবাগ মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল্লাহ ইব্রাহিমী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, সত্যনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন এবং কওমি মহিলা মাদরাসা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আলেম-উলামা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ শিক্ষাব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা ড. ওলীউর রহমান, মাওলানা আহমদ মায়মুন, মাওলানা আনওয়ারুল হক, মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, মুফতি উবায়দুল কাদির নদভী, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি আজিজুল হক, মুফতি শাহাদাত হোসাইন, মুফতি আব্দুস সাত্তার, মুফতি উসমান আশরাফী, মুফতি জোবায়ের আহমদ, মুফতি বেলায়েত হোসাইন ফিরোজী, মাওলানা নূরুল হক ও মাওলানা হোসাইন আহমদসহ বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদরা।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি ও সনদ বিতরণ করা হয়।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার