বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই দুই সেরার মহারণ। এবার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের শক্তি ও কৌশলে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। আক্রমণভাগে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, আর রক্ষণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন।
ফাইনালের আগে এক নজরে দুই দলের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান—
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত ১৯টি গোল করেছে, যেখানে স্পেনের গোলসংখ্যা ১৩।
কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর থেকে বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
চলতি আসরে স্পেনের প্রত্যাশিত গোল (Expected Goals) ১৩.৩।
আর্জেন্টিনা এবার বক্সের বাইরে থেকে ৫টি গোল করেছে, যেখানে স্পেন এখনো এভাবে কোনো গোল করতে পারেনি।
ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনা ৭টি গোল হজম করেছে। বিপরীতে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে।
স্পেনের রক্ষণভাগের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের সুযোগের মান (Expected Goals Against) মাত্র ২.১, যা এবারের বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন। অর্থাৎ, স্প্যানিশ ডিফেন্স ভাঙা ছিল প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ।
ফাইনালে ওঠার পথে দুই দলের মোট ড্রিবল প্রচেষ্টা ২০৯টি।
এই ২০৯টি ড্রিবলের মধ্যে ৯০টিই এসেছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিন ইয়ামালের পা থেকে।
আর্জেন্টিনা প্রথম চার ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে ১৩টি ক্রস করলেও শেষ তিন ম্যাচে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১টি, যা তাদের আক্রমণ কৌশলের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণে ধারালো আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। অন্যদিকে স্পেনকে শিরোপা জিততে হলে থামাতে হবে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতা। তাই ফাইনালের লড়াইয়ে কেবল দুই দলের নয়, আক্রমণ বনাম রক্ষণ—দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথ অপেক্ষা করছে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স