গণরায় উপেক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: এটিএম আজহারুল ইসলাম

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ বিকাল
  • ৫৫০৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সমাজে বিদ্যমান নানা সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনগণ যে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রত্যাশায় গণভোটে রায় দিয়েছে, সরকারকে দ্রুত সেই গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে গড়িমসি করা হলে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরসংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় ‘ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ’ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সমাজে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। সরকার বারবার দাবি করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ দুটি বিষয়ে ভোট দিয়েছে। একটি সরকার গঠনের জন্য এবং অন্যটি ছিল সংবিধানের যেসব বিধানের কারণে একটি সরকার ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোর সংস্কারের জন্য। সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম। এর পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত না করায় আমরা লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। সরকারই আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলেছিলাম, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও ফয়সালা করা সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে দেবেন না। কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে রাজপথে নিয়ে এসেছে।’ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্যের প্রতিবাদেও লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চের পথে রংপুরের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন। লংমার্চ ও পথসভা সফল করার লক্ষ্যে শনিবার পথসভাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে এখানে উপস্থিত হয়ে লংমার্চ ও পথসভা সফল করবেন।’

সাধারণ জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ নিজেদের দাবি আদায়ে যত বেশি সোচ্চার হবে, সরকার তত বেশি দাবি পূরণ করতে বাধ্য হবে। জনগণের দাবি নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে লংমার্চ ও পথসভা সফল হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে লংমার্চ ও পথসভা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে আজহারুল ইসলাম বলেন, তারা আশা করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আচরণ না করে জনগণবান্ধব ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এমপি, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শাহিনুর আলমসহ বগুড়া, পাবনা ও জয়পুরহাট জেলার নেতৃবৃন্দ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad