আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবুল হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি সরকারি আশ্রয়ণের ঘর কিনেছেন। পরিবারের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা না থাকায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জায়গাসহ ঘরটি আনিছুরের কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানান তিনি। সরকারি আশ্রয়ণের ঘর কেনাবেচা করা যায় না—এ বিষয়ে তিনি জানতেন না বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাতেমা নামের এক সুবিধাভোগী খানসামার হাড়িপাড়া এলাকার নন্দিনী নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় দুই লাখ টাকায় ঘর বিক্রি করেছেন। হযরত নামের আরেক সুবিধাভোগী গফুর মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এবং হাকিম উদ্দিন নামের আরেক সুবিধাভোগী মহুবার নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ঘর বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। টংগুয়ার আমতলী এলাকার বাসিন্দা বাংগাল বুড়া নামে এক সুবিধাভোগী ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে সেখানে নিজে বসবাস না করে সেটি ভাড়া দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে জয়গঞ্জের খেয়াঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ১১৮টি ঘর রয়েছে। বর্তমানে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫৫টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ঘর বিক্রি বা হাতবদল হয়েছে। অবশিষ্ট কয়েকটি ঘরও ব্যবহার না হওয়ায় পড়ে রয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যতদিন থেকে এই আশ্রয়ণের ঘরগুলো পেয়েছি, তখন থেকে স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে আসতে দেখিনি। প্রায় চার-পাঁচ বছর হবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, তারা ভূমিহীন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন অনুদান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাতিয়ানগড় বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা কছিমউদ্দিন কৈপাড়ার বাসিন্দা গাডরের কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ঘর কিনেছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে, আলোকডিহির বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘আমি একদমই ভূমিহীন। অন্যের খামারে রাত্রিযাপন করি। আমার মতো অনেকেই আছে, তারা ঘর পায়নি। আর যাদের জমিজমা আছে, তারাই ঘর পায়।’
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আশ্রয়ণের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বরাদ্দ পেয়েও যারা সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)