লন্ডনে এক লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ির বিপরীতে স্বচালিত গাড়িতে যাতায়াতের জন্য আগ্রহী গ্রাহকের সংখ্যাও প্রায় এক লাখ। ফলে চাহিদার তুলনায় রোবোট্যাক্সির সংখ্যা আপাতত খুবই কম।
বর্তমানে প্রতিটি গাড়ির সামনের আসনে একজন অনুমোদিত নিরাপত্তা চালক থাকবেন। প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। গত মাসে লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) নিরাপত্তা চালকসহ এসব গাড়িকে ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ি হিসেবে অনুমোদন দেয়।
তবে সম্পূর্ণ চালকবিহীনভাবে চলাচলের জন্য পৃথক সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। এ অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (ডিভিএসএ)। সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
ওয়েভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কেন্ডাল বলেন, লন্ডনের জটিল সড়ক ব্যবস্থায় তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি উন্মুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা চালক ছাড়াই রোবোট্যাক্সি পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এর নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
ওয়েভের প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমোর মতো বিস্তারিত ম্যাপিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শেখার মডেলের মাধ্যমে গাড়িকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালানোর সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।
উবার অ্যাপ থেকেই গাড়ি ডাকা ও আনলক করা যাবে। যাত্রা শুরুর আগে নিরাপত্তা চালক নিজের পরিচয় জানাবেন এবং সাধারণত যাত্রার সময় কথা বলবেন না। তবে প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।
ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের উপযোগী গাড়িতে প্রযুক্তিটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়েভের। নতুন নিসান লিফ মডেলের রোবোট্যাক্সিতেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে গাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই ও সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
লন্ডনে এই সেবা চালুর ফলে ইউরোপের রোবোট্যাক্সি বাজারে উবারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েমো এবং চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইদুওও লন্ডনে রোবোট্যাক্সি পরীক্ষা করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ চালকবিহীন ট্যাক্সি চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি শহরে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে ইউরোপের প্রথম বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা চালুতেও অংশ নেয় উবার। সেখানেও নিরাপত্তার জন্য গাড়িতে মানবচালক রাখা হয়েছে।
উবারের স্বচালিত পরিবহন বিভাগের প্রধান সারফরাজ মারেদিয়া বলেন, বিশ্বের অন্যতম জটিল সড়ক ব্যবস্থার শহর লন্ডনে নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বচালিত গাড়ি প্রযুক্তি চালু করা বড় মাইলফলক।
তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে সতর্ক করেছে শ্রমিক সংগঠন জিএমবি। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সংগঠক ডেভিড ম্যাকমুলেন বলেন, লাখ লাখ মানুষের জীবিকা গাড়ি চালানোর সঙ্গে যুক্ত। তাই চালকবিহীন গাড়ির বিস্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন; অন্যথায় বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক