ভোলার গ্যাস মূল নেটওয়ার্কে আনতে সাত বছর সময় লাগবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল
  • ৪৬৩৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেখানে একটি সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সুলতানা আহমেদ জানতে চান, নতুন এলএনজি টার্মিনালগুলো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইন গ্রিডে যুক্ত করা বা জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো উপায়ে সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিতে চাইলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছর লাগবে। তাই ভোলাতেই গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা সেখানে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০–২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা রয়েছে। এ ছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি–২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

নতুন এলএনজি টার্মিনাল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্প খাতের ক্ষতি কমাতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা তৈরি হবে বলে জানান সংসদ নেতা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad