ইবিএলে শওকতের বেনামি নিয়ন্ত্রণ ২০.৪৮ শতাংশ, নীরব বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ বিকাল
  • ৪৮৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বিশেষ পরিদর্শনে বেনামি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসেবে শনাক্ত | ১০ শতাংশের আইনি সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ | ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশেও থমকে আছে প্রক্রিয়া

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)–এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী নামে-বেনামে ব্যাংকটির ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে উঠে এসেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শেয়ার নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ। পরিদর্শন দল শওকতকে বেনামি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসেবে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক মাস পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। শওকত এখনো ইবিএলের পরিচালক।

নথি অনুযায়ী, শওকতের বিরুদ্ধে বেনামি শেয়ারের মাধ্যমে ইবিএলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অভিযোগ পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-৩-এর অনুমোদনে বিশেষ পরিদর্শন শুরু হয়। পরিদর্শনে ইবিএলের শেয়ার রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানা, আয়কর নথি, অর্থের উৎস এবং পক্ষগুলোর পারস্পরিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হয়।

আরুসার নামে প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ার

পরিদর্শনে শওকতের দৃশ্যমান পারিবারিক মালিকানার বাইরে অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইবিএলের বড় অংশের শেয়ার তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—আরুসা অ্যান্ড কোং (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত শওকত ও তাঁর পরিবারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মালিকানা মিলিয়ে ইবিএলে নিয়ন্ত্রণ ছিল ২১ দশমিক ১০ শতাংশ। সাম্প্রতিক পরিদর্শনে সেই নিয়ন্ত্রণ ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরুসা অ্যান্ড কোং মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে। নিবন্ধনের ১৭ দিনের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি ইবিএলের বড় অঙ্কের শেয়ার ধারণ করে। পরে ক্রয় ও স্টক ডিভিডেন্ড মিলিয়ে আরুসার হাতে ইবিএলের ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ২৯২টি শেয়ার জমা হয়, যা ব্যাংকটির মোট পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। বর্তমান বাজারদরে এসব শেয়ারের মূল্য ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

পরিদর্শনকালে আরুসার পোর্টফোলিওতে ইবিএল ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলের পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা করে মুনাফা করা নয়, বরং ইবিএলের শেয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল আরুসার বিনিয়োগের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

১ লাখ টাকার কোম্পানির ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা

আরুসার আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল। মাত্র ১ লাখ টাকা মূলধনের কোম্পানিটি ২০০৩ অর্থবছরেই প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্যাপিটাল রিজার্ভ দেখায়। অল্প মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের এত দ্রুত বিপুল মুনাফা ও রিজার্ভ গঠনকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরুসা প্রতিষ্ঠার সময় ১ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৯৫০টি ছিল নইমুল হকের নামে




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad