সংগীত, সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওবায়দুল্লাহ তারেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ফলোয়ারের মাইলফলক অর্জন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পথচলা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক উদ্যোগের প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে এ অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম ওবায়দুল্লাহ তারেকের। শৈশব থেকেই সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরে ইসলামী সংগীতচর্চার পাশাপাশি গীতিকার, সুরকার, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত ‘তুমি আসমানে থাকো প্রভু, আমি জমিনে’, ‘বাবা তুমি কেমন আছো ছোট্ট মাটির ঘরে’, ‘মাওলা তোমারও লাগিয়া কাঁদে আমার প্রাণ’, ‘বাজান আমার ঔষধ শেষ’, ‘দে দে পাল তুলে দে’ এবং ‘নির্ঘুম এ রাত জেগে আছে চাঁদ’সহ বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। বিভিন্ন টেলিভিশনের টাইটেল সং-এর গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তিনি সৃজন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এ ছাড়া চন্দ্রালোক মিডিয়া কর্পোরেশন, Thanks TV News, Thanks TV, ক্লাসিক ওয়ার্ল্ড সঙ্গীত একাডেমি এবং ইলহাম ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষাজীবনেও রয়েছে তাঁর একাধিক অর্জন। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা নেন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হিসেবে গবেষণাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
১০ লাখ ফলোয়ারের অর্জন প্রসঙ্গে ওবায়দুল্লাহ তারেক বলেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। ১০ লাখ মানুষের ভালোবাসা তাঁর জন্য আনন্দের পাশাপাশি বড় দায়িত্বেরও বিষয়। এই প্ল্যাটফর্মকে শুধু বিনোদনের জন্য নয়, সুস্থ সংস্কৃতি, নৈতিকতা, শিক্ষা ও ইতিবাচক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান তিনি।
তিনি বলেন, এ অর্জন তাঁর একার নয়। যারা তাঁর গান শুনেছেন, কাজকে ভালোবেসেছেন, পাশে থেকেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন—এই মাইলফলকের অংশীদার তাঁরাও।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে একজন শিল্পীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বিশেষ করে সংগীত, সংস্কৃতি ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিনে এমন অনুসারী তৈরি হওয়া তাঁর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত বহন করে।
দেশের বাইরেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
১০ লাখ ফলোয়ারের অর্জনকে সাংস্কৃতিক পথচলার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। আগামী দিনে সংগীত, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স