ট্রেনে গান গেয়ে শুরু, আজ বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আয়ুষ্মান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ দুপুর
  • ১৮৯৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বলিউডে একযুগের বেশি সময় ধরে নিজের অভিনয় ও গানের প্রতিভায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও সমান দক্ষ এই তারকা আজ হিন্দি সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ। তবে তার এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একসময় বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে মুম্বাই যাওয়ার পথে সহযাত্রীদের গান শুনিয়ে মাতিয়ে রাখতেন তিনি। সেই তরুণই এখন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর আয়ুষ্মান খুরানার ৪২তম জন্মদিন। ১৯৮৪ সালে ভারতের চণ্ডীগড়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ছাত্রজীবনেই। ডিএভি কলেজে পড়ার সময় তিনি একটি থিয়েটার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মঞ্চে অভিনয় করেন। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে মুম্বাই যাওয়ার সময় সহযাত্রীদের গান শুনিয়ে সময় কাটাতেন।

তবে স্বপ্নের শহর মুম্বাইয়ে তার শুরুর দিনগুলো ছিল বেশ কঠিন। থাকার জায়গা না থাকায় এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন। সেখানে জায়গা সংকটের কারণে এক রাতে বন্ধুর সঙ্গে তার প্রেমিকার মাঝখানেই ঘুমাতে হয়েছিল বলেও জানা যায়। পরে আরেক বন্ধুর সহায়তায় একটি মেডিক্যাল হোস্টেলে থাকতে শুরু করেন তিনি।

‘রোডিজ’ দিয়ে পরিচিতি

২০০৪ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘রোডিজ’ জয়ের মাধ্যমে প্রথম বড় পরিসরে পরিচিতি পান আয়ুষ্মান। এরপর উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন এবং ছোটপর্দাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন। ধীরে ধীরে অভিনয়ের দিকে এগিয়ে যান তিনি।

২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় আয়ুষ্মানের। সিনেমাটির জনপ্রিয় গান ‘পানি দা’-তে কণ্ঠও দেন তিনি। অভিনয় ও গানের জন্য একই সিনেমায় শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা এবং শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান এই তারকা।

এরপর ‘দম লাগা কে হইশা’, ‘বরেলি কি বরফি’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘বধাই হো’, ‘আন্ধাধুন’, ‘আর্টিকল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ ও ‘বালা’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

‘আন্ধাধুন’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্ধাধুন’ সিনেমা আয়ুষ্মানের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। সিনেমাটিতে অন্ধ পিয়ানোবাদকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মানও অর্জন করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আয়ুষ্মান। ‘পানি দা’ ছাড়াও ‘মেরে লিয়ে তুম কাফি হো’, ‘ইয়াহি হুঁ ম্যায়’, ‘সাদি গালি আজা’ ও ‘ন্যায়না না জোড়ি’র মতো গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

সাফল্যের পরও সাধারণ জীবনদর্শন

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য ও খ্যাতি পেলেও আয়ুষ্মান মনে করেন, জীবনের কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়—এটাই তিনি বুঝতে পেরেছেন। মানুষের কাছে যা আছে, তা হলো বর্তমান। তাই প্রতিটি দিনকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো উচিত। তিনি প্রতিটি দিন ভালোভাবে বাঁচতে চান—এটাই তার মূল উপলব্ধি।

ট্রেনের কামরায় সহযাত্রীদের গান শোনানো থেকে শুরু করে জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা হয়ে ওঠা—আয়ুষ্মান খুরানার এই যাত্রা বলিউডে তার সংগ্রাম, প্রতিভা ও অধ্যবসায়েরই প্রতিচ্ছবি।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad