শেয়ারবাজারে টানা পতন, শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে ডিএসইর জরুরি বৈঠক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর
  • ১৫৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
টানা দরপতন, বিক্রির চাপ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের মধ্যে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ডিএসইর বোর্ড রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিএসইর একটি বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ধারাবাহিক দরপতনের কারণ চিহ্নিত এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরাতে করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বড় দরপতনের পর ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) জরুরি বৈঠক করেছিল। তবে এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটেনি। গত সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসেও সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে।

দুই দিনে সূচক কমেছে ১৩৬ পয়েন্টের বেশি

রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩৬টির শেয়ারের দর কমেছে। দর বেড়েছে মাত্র ২৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

বড় পতনের দিনেও লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৫৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্টের বেশি কমেছে। ফলে মাত্র দুই কার্যদিবসে প্রধান সূচকের পতন ১৩৬ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের পাশাপাশি বিক্রির চাপও বেড়েছে।

এক সপ্তাহে সূচক কমেছে ১৪৭ পয়েন্ট

এর আগে ৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক কমে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স ১৪৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে নেমে আসে। এটি প্রায় তিন মাসের মধ্যে সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।

ওই সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৩ হাজার ৪৪ কোটি টাকার চেয়ে কম। দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৫৫৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। এ সময়ে ৩১০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে মাত্র ৬০টির। প্রায় সব প্রধান খাতেই দরপতন দেখা গেছে।

জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তায় চাপ

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অন্যতম কারণ। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় ও মুনাফায় পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থান নিচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন পদক্ষেপও বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছে। বিভিন্ন কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চেয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে চিঠি দেওয়া এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগের বিষয়ও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে বড় কিছু বিনিয়োগকারী সতর্ক হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন, ফলে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বাড়ছে।

এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাজারের প্রতি আস্থার ঘাটতিও রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে বাজার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন।

ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার চাপ বেশি

বাজারের দুর্বল অবস্থার আরেকটি দিক হলো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া। গত সপ্তাহে দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কম দামে শেয়ার কেনার আগ্রহ কিছু বিনিয়োগকারীর থাকলেও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা সেই চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপই বেশি থাকছে।

এ অবস্থায় শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ডিএসইর আগামীকালের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে বাজারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, বড় বিনিয়োগকারীদের আচরণ, বিক্রির চাপের কারণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট সম্পর্কে ব্রোকারদের কাছ থেকে সরাসরি ধারণা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনতে ব্রোকারদের করণীয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসই ও ডিবিএর জরুরি বৈঠকে টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ও অস্বাভাবিক বিক্রির চাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বড় দরপতন হওয়ায় বাজারের মৌলিক চাপগুলো এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad