তবে পুলিশ বলছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্যই চার আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগনিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিমকে নিয়ে বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা তার বাসায় গেলে তিনি বলেন, ‘আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনোদিন মেনে নেব না।’
নাহিদা বেগম বলেন, তার ছেলেকে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তাকে হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবেও দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ তিনি মেনে নেবেন না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, তিনি শুধু নিজের ছেলের হত্যার বিচার চান না; যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তারা ভবিষ্যতে কারাগার থেকে বের হয়ে অন্য শিশুদের জীবনও বিপন্ন করতে পারে—এ নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
আগের মাদকবিরোধী পদক্ষেপস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাদক সেবনের সময় সালমানপুর এলাকার আট কিশোরকে শিক্ষার্থীরা আটক করেন। পরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
সে সময় ওই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মিলন ও আল আমিন নামের দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ওই ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্র নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই বিরোধের জের ধরে অপ্রতিমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে।
যেভাবে হত্যাতদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় তুহিন। সেখানে ফাহাদ ও কামরুলসহ অন্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে শ্বাসরোধ এবং বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতেও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যের কথা এসেছে।
‘অন্য কোনো বিষয় থাকলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে’কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে অন্য বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা যাতে ছাড়া পেয়ে ভবিষ্যতে অন্য পরিবারের সন্তানদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
অপ্রতিমের পরিবার বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ ও ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আইফোন ছিনতাইয়ের বিষয়টি আসামিদের জবানবন্দিতে স্পষ্ট হলেও পরিবারের উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক