তবে ওপেনএআই বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্য রেকর্ডে ওই এজেন্ট প্রবেশ করেছিল—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বুধবার। এর এক দিন আগেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২১টি দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি এআই নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করেছিলেন।
‘এ কল ফর কন্ট্রোল অব ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলস’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে কানাডা, স্পেন ও জার্মানিসহ ২১ জন স্বাক্ষর করেন। এর পরদিনই আলবানিজি জানান, ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়া সরকারের মেডিকেয়ার পোর্টালের সরকারি ও অ-সরকারি তথ্য দেখার সুযোগ পেয়েছিল।
আলবানিজি বলেন, এ বিষয়ে তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ঘটনাটিতে ক্যানবেরার ‘চরম উদ্বেগের’ কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা স্বীকার করতে ওপেনএআইয়ের তিন মাস সময় নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তবে আলবানিজির সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর ওপেনএআই জানায়, ঘটনাটি এখনো তদন্ত করা হচ্ছে। রোগীদের স্বাস্থ্য রেকর্ডে প্রবেশ করা হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। কোম্পানিটির পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের একাধিক ওয়েবসাইট ও সেবায় এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওপেনএআই বলেছে, তাদের মডেলগুলো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এসব সাইটে তথ্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার এরই মধ্যে প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। এ জন্য নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন, বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণে নতুন কাঠামো আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা
বুধবার জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে এআই খাতের নেতারাও অনিয়ন্ত্রিত এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন।
‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত কানাডার বিজ্ঞানী ইয়োশুয়া বেঙ্গিও এআইয়ের ঝুঁকিকে ‘নজিরবিহীন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের সহসভাপতি।
তার ভাষায়, এআইয়ের কিছু ঝুঁকি ‘বাস্তব ও আসন্ন’।
জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরো উন্নত করা দরকার। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সেই সতর্কবার্তা শুনেছি, যেগুলো আমাদের গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে। তাই এই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।’
তবে একই সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যের বিষয়ে সতর্ক করেন।
তবে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনেক বিশ্বনেতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্প এআইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ করার প্রস্তাব দেন। এর আগে তিনি এআইবিষয়ক একজন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের দৌড়ে চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে না। তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে।
বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওসও একই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রযুক্তি বোঝেন না, সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।’
তার মতে, বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির বদলে দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদ্ধতি ভাগাভাগি করার দিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজর দেওয়া উচিত।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক