জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ফলপ্রসূ: মাহ্দী আমিন

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ রাত
  • ১৮৮১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ সম্পর্কে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, বৈঠকের শুরুতেই জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় অভিনন্দন জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের কথাও স্মরণ করেন।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

জাতিসংঘে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অঙ্গীকার

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

ভাষণে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড ও ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণটি উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচি দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের—এই তিন ভাগে বিভক্ত ছিল।

দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ‘পিপল টু পিপল টাইস’ বা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান মাহ্দী আমিন।

এ ছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা

পরিবেশবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবায় এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা

মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজারই নারী থাকবেন। পাশাপাশি মিডওয়াইফারি বা ধাত্রীসেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও বিশ্বনেতা ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ অনলাইন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad