নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ, আটা-ময়দা-ডিম-মাছে ঊর্ধ্বগতি

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা, ডিম, মাছ, মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ আরও বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার, কেরানীগঞ্জের বউবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

নয়াবাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে খোলা আটার দাম ছিল ৪৫ টাকা এবং ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা এখন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। ময়দার দাম বাড়ায় বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দামেও প্রভাব পড়েছে।

গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সব পণ্য আগের দামে পাওয়া যাচ্ছে না।

সবজিতেও ঊর্ধ্বগতি

ছুটির দিনে চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমতে পারে।

ছয় মাসে ডিম বেড়েছে ৪৫-৫০ টাকা

ডিমের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এর দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম।

তবে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছেও বাড়তি দাম

রাজধানীর বাজারে রুই ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দামে এর প্রভাব পড়েছে।

কর কমানোর সুফল নিয়ে প্রশ্ন

চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হয়েছে। তবে এর সুফল খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, কর কমানোর পরও প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি; বরং কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad