ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার কথা জানিয়েছে। ভারতের এক এলএনজি আমদানিকারকও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছে।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এলএনজি সরবরাহ স্থগিত থাকবে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত।
প্রতি মাসেই সরবরাহ বাতিলইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতারএনার্জি প্রায় প্রতি মাসেই গ্রাহকদের ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করছে এবং নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ বাতিল করে আসছে।
চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের এলএনজি পরিবহন কিছুটা বেড়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সংকট কাটার সম্ভাবনা অনিশ্চিতহরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্ত শিথিল করার বিষয়ে ইরান এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছেন। ফলে সংকট দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি না হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপগত বছর বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইউরোপ ও এশিয়ায় এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। উত্তর গোলার্ধে শীত মৌসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়ের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক