গবেষণায় বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করেন। সেখানে সমুদ্রের তলদেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের অনুরূপ পরিবেশে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, এসব ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। তারা হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বিপাকক্রিয়া পরিচালনা করতে সক্ষম। কঠিন পরিবেশেও জীবাণুগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে।
গবেষক দলের সদস্য বিজ্ঞানী নোজাইর খাওয়াজা বলেন, গবেষণার ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসের এনসেলাডাসের উপরিভাগের তাপমাত্রা মাইনাস ২০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। তবে উপগ্রহটির পাথুরে কেন্দ্রের ভূ-তাপীয় প্রক্রিয়ার কারণে বরফের নিচে বিশাল তরল পানির মহাসাগর রয়েছে।
এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরুতে থাকা ফাটল দিয়ে ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের পানি ও বরফের কণা শত শত মাইল উঁচুতে ছিটকে বেরিয়ে আসে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান অতীতে এসব বরফকণা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
বিজ্ঞানী ফ্রাংক পোস্টবার্গ বলেন, প্রাচীন পৃথিবীতেও অক্সিজেনের উপস্থিতি ছিল না এবং ওই ধরনের পরিবেশেই কিছু জীবাণুর বিবর্তন ঘটেছিল।
তবে এনসেলাডাসে বাস্তবে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণাটি মূলত দেখিয়েছে, শনির এই উপগ্রহের ভূগর্ভস্থ পরিবেশে কিছু ধরনের জীবাণুর টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত থাকতে পারে। এ গবেষণার ফল ভবিষ্যতে সৌরজগতের বিভিন্ন স্থানে প্রাণের সন্ধানে নতুন গবেষণার পথ তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক