জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের ৩০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, নতুন সহযোগিতার প্রত্যাশা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ বিকাল
  • ২৯২১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ‘সার্থক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন। তিনি বলেছেন, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাহাদী আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান। চার দিনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে ফেরেন।

বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

মাহাদী আমিন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেন। ভাষণে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশল, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে অবস্থান

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

একই দিন বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায়ও অংশ নেন তিনি। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমারে সহিংসতার অবসান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক বৈঠকেও তিনি অংশ নেন এবং এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে’

মাহাদী আমিন বলেন, এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি ব্রাজিল ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব এবং সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

মাহাদী আমিনের ভাষ্য, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad