শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে নদীর তীর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোণা পৌর শহরের কাটলী এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। আটক নুরুল আমীন মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
বিচ্ছেদের পরও মামলা ও খোরপোষ নিয়ে বিরোধপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নুরুল আমীন ও নাজু আক্তারের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তাদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি মামলার রায়ের ভিত্তিতে নাজু আক্তারকে খোরপোষ দিয়ে আসছিলেন নুরুল আমীন। তবে গত তিন মাস ধরে তিনি খোরপোষের টাকা দিচ্ছিলেন না।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খোরপোষের টাকা চেয়ে নুরুল আমীনকে ফোন করেন নাজু আক্তার। টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে নেত্রকোণা শহর থেকে নগুয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রামে যাওয়ার পর নদীর তীরে নাজু আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেন নুরুল আমীন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য মালামাল গ্রামের একটি শ্মশানের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
জিডির সূত্র ধরে তদন্তনাজু আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই শুভ মিয়া নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার দুপুরে নুরুল আমীনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাটিচাপা দেওয়া নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়।
ওসি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক