বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা নেওয়ার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকার পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। ফলে দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৭ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক।
রাজস্ব কমেছে, বাড়ছে ঋণনির্ভরতাখাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বেসরকারি খাত আগে থেকেই নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোরও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
লক্ষ্যমাত্রার ১১.৪৯ শতাংশ ঋণ দুই মাসেই২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই এর ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিও যেতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সরকারের ব্যয়ের চাপ বিভিন্ন কারণে বাড়ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যয়ও বাড়তে পারে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। ভর্তুকির ব্যয়ও এর ফলে বাড়তে পারে।
তাঁর মতে, রাজস্ব আয় দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা না থাকলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে। এতে বাজেট ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাহিদাও বাড়তে পারে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকাবাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমেছে। ৩০ আগস্ট শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা গত জুনে ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।
অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কিছুটা পরিশোধ করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক