মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব, ফি হতে পারে ১৩.৯০ টাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল
  • ৪৯৭১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য কর যুক্ত হলে ফি দাঁড়াবে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন সীমা ও ফি কাঠামো এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি।

কেন বাড়ছে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা

মোবাইল অপারেটরগুলোর যুক্তি, বর্তমান সীমায় অনেক গ্রাহক প্রয়োজনীয় ডেটা বা মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারেন না। যেমন, কোনো প্যাকেজের দাম ৩১০ টাকা হলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে তা কেনা সম্ভব নয়। সীমা ৫০০ টাকা করা হলে গ্রাহকেরা বেশি দামের প্যাকেজ কেনার সুযোগ পাবেন।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক সময় ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্যাকেজ কেনা সম্ভব হয় না। সীমা বাড়ানো হলে এ সমস্যা কমবে।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সেবা ফি ২ টাকা। করসহ এ ফি ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

কীভাবে এলো ৫০০ টাকার প্রস্তাব

ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রথমে দেয় গ্রামীণফোন। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চায় অপারেটরটি। এ জন্য সর্বোচ্চ ২০ টাকা ফি রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ডেটা ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ও বেশি ডেটা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য বর্তমান সীমা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়।

তবে গ্রামীণফোনের প্রস্তাবে অন্য অপারেটরগুলো আপত্তি জানায়। গত ২১ জুন বিটিআরসির সঙ্গে এক সভায় তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে, একক অপারেটরকে এ সুবিধা দেওয়া হলে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে এবং অনাদায়ি অর্থের পরিমাণ বাড়তে পারে।

পরে সব অপারেটরের জন্য অভিন্ন প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবকে। সংগঠনটি ২৩ জুলাই বিটিআরসির কাছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেয়।

প্রস্তাবে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সে কোনো ফি না রাখা, ১০ থেকে ২০০ টাকায় ২ টাকা এবং ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়। পরে ২০ আগস্ট বিটিআরসি ও অ্যামটবের সভায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

ফি নিয়ে অপারেটরগুলোর মতভেদ

অ্যামটব সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক প্রস্তাবিত কাঠামোয় সম্মত হয়েছে। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ টাকা ব্যালান্সে ২ টাকা, ২১ থেকে ৫০ টাকায় ৩ টাকা এবং ১৫১ থেকে ২০০ টাকায় ৬ টাকা ফি নেওয়া হবে। ৪০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে ফি হবে ১০ টাকা।

এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০০ টাকার কম ব্যালান্স নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু গ্রাহকের ফি বাড়তে পারে। কারণ, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সে সেবা ফি ২ টাকা।

প্রতিদিন ৩৫ লাখ গ্রাহক নেন জরুরি ব্যালান্স

মোবাইল অপারেটর সূত্রের দাবি, চার অপারেটর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ গ্রাহক ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেন। দেশে মোবাইল সেবা দিচ্ছে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক। বিটিআরসির হিসাবে, চার অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির বেশি।

শুরুতে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের সামান্য পরিমাণ ব্যালান্স দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ সেবা চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি নির্দেশ দিয়েছিল, গ্রাহকদের অন্তত ১০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিতে হবে এবং এ জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। একই বছরের ২ জুলাই অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স চার্জমুক্ত থাকবে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে সেবা ফি নেওয়া যাবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেয়। অন্যদিকে, টেলিটক সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত দেয়।

অপারেটরগুলোর দাবি, এ সেবা এখন শুধু টাকা ধার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আওতায় মিনিট লোন, ডেটা লোন, ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং বিভিন্ন প্যাকেজ কেনার সুবিধাও রয়েছে। পরবর্তী রিচার্জ থেকে বকেয়া অর্থ ও প্রযোজ্য ফি কেটে নেওয়া হয়। এ অর্থ সরাসরি অপারেটরগুলো না দিয়ে তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে বলে অপারেটর সূত্রের দাবি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), অ্যামটব ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের বক্তব্য ও নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad