কিডনি রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে শরীরের যে ৬ পরিবর্তন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ দুপুর
  • ৪০৪৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন, পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তিসহ শরীরের কিছু লক্ষণ কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে শুধু লক্ষণ দেখে কিডনি রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

কিডনির সমস্যার সম্ভাব্য ৬ লক্ষণ

১. প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন

প্রস্রাবের পরিমাণ, রং বা ঘনত্বে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ঠিকমতো বের করতে না পারলে শরীরে পানি জমতে পারে। এর ফলে পা, গোড়ালি কিংবা শরীরের অন্য অংশ ফুলে যেতে পারে।

৩. চোখের চারপাশে ফোলাভাব

বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেওয়া এবং তা বারবার হওয়া কিডনির সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। তবে অ্যালার্জিসহ অন্যান্য কারণেও এমন ফোলাভাব দেখা যায়।

৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার কারণেও ক্লান্তি, দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

৫. প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা

প্রস্রাবে বারবার অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে তা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বের হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিডনির ছাঁকনিপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমনটি ঘটতে পারে। তবে প্রস্রাবে ফেনা হলেই কিডনি রোগ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

৬. রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব

রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন কিডনির সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, প্রোস্টেটের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত কিংবা অন্যান্য কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

উল্লিখিত লক্ষণগুলো নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ও eGFR পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা যায়। পাশাপাশি প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করেও কিডনির ক্ষতির বিষয়ে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

ঝুঁকিতে থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি

কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ কিডনি রোগের পাশাপাশি অন্য সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ গ্রহণ না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad