বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এসব তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
ডলার ও বন্ডের মুনাফা কমায় স্বর্ণে উত্থানবাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৫৬ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছায়।
এদিন ডলারের সূচক কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, প্রকৃত সুদের হার কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগের চাহিদা বজায় থাকায় স্বর্ণের দাম আগের পতন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা পাচ্ছে। তবে কারিগরি বিশ্লেষণে স্বর্ণবাজারের অবস্থান এখনো নাজুক।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরাযুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পেট্রলের ব্যয় বেড়েছে। তবে মূল্যচাপ শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দেশটির মূল মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির প্রবণতা ও ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এসব তথ্য প্রকাশের কথা ছিল।
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, উৎপাদক মূল্যসূচক বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ডের মুনাফা আবারও বাড়তে পারে। তাই বাজারের পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগসিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ধরে বাজারে লেনদেন হচ্ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এ সম্ভাবনা ছিল ২২ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদযুক্ত সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি বলেছেন, ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে—এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।
অন্যদিকে, ফেডের তদারকি বিভাগের ভাইস চেয়ার মিশেল বোম্যান বলেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার মতো সময় রয়েছে।
রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছেস্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬১১ ডলার ৭৬ সেন্টে পৌঁছায়। আর প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১২৫ ডলার ৩৭ সেন্ট হয়।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, উৎপাদক মূল্যসূচক ও খুচরা বিক্রির তথ্যের দিকে। এসব তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মূল্যবান ধাতুর বাজারে পরবর্তী দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক