বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের স্বর্ণের ফিউচার দর কমে ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের তুলনায় ০ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। মূল্যস্ফীতির এই তথ্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ডলার ও স্বর্ণের বাজারে।
ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, সিপিআইয়ের তথ্যের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী আপাতত লেনদেন থেকে বিরত রয়েছেন। এই প্রতিবেদন ডলারের গতিপথ এবং স্বর্ণসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তেলের দাম বৃদ্ধি, সুদের হার নিয়ে উদ্বেগবুধবার হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও একবার সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে ধারণা করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
বছরের শেষ দিকে দাম বাড়ার পূর্বাভাসফাওয়াদ রাজাকজাদার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ঊর্ধ্বগতি থেমে গেলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে। বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন।
রুপা ও প্লাটিনামের দামও কমেছেস্বর্ণের পাশাপাশি বুধবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কত?আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাজুস। সংগঠনটির নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হলো—
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন অব্যাহত থাকলেও দেশের বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আন্তর্জাতিক মূল্যপ্রবণতা ও বাজুসের মূল্য পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক