বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী কারখানা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী পাকিস্তান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
  • ১৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন কারখানা স্থাপন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বাংলাদেশি রোগীদের বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তাঁর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করে।

যৌথ উদ্যোগে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনের প্রস্তাব

বৈঠকে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে আসে।

এ ছাড়া দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান। এ জন্য বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহের কথা জানান হাইকমিশনার।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপদেষ্টা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ইন্টার উইং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের কথা স্মরণ করেন।

শুল্কমুক্ত চা আমদানির কোটা ১০ হাজার টন

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রয়েছে পাকিস্তানের। দেশটির বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে আনারস ও চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।

বছরে ১০ বাংলাদেশির বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ‘পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টার’-এ প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন হাইকমিশনার।

পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার।

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রসঙ্গ

বৈঠকে ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টিও উঠে আসে। হাইকমিশনারের মতে, এ যোগাযোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad