পতাকার মর্যাদা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের শপথ নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ দুপুর
  • ২৬০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সেনাবাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার করার উদ্যোগ অব্যাহত

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জন কেবল সম্মানের বিষয় নয়; এটি অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। এর গৌরবময় উড্ডয়ন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট জাতীয় পতাকা পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

নিজের সেনা-সংশ্লিষ্ট পারিবারিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবেশেই বেড়ে ওঠায় এ ধরনের পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়।

আধুনিক প্রতিরক্ষায় প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলে সীমাবদ্ধ নয়। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থাই এর প্রকৃত শক্তি। এর মধ্যে চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার স্মরণ

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরুর পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ও গৌরবজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad