আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এ গবেষণায় পাকিস্তানের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চার প্রদেশের প্রায় ১৮ হাজার মানুষের তথ্য
পাকিস্তান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটি (পিপিএস) ও করাচির হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করেন। এতে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন অ্যান্ড সাসেক্স মেডিকেল স্কুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা সহায়তা দেয়।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের প্রায় ১৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। গবেষকদের মতে, দেশটির মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা।
বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়েও উদ্বেগ
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ১০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক বিষণ্নতায় ভুগছেন। এ ছাড়া জরিপের আগের এক মাসে অন্তত ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আত্মহত্যার চিন্তা করার কথা জানিয়েছেন।
মানসিক সমস্যার এ ব্যাপকতা ব্যক্তির পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝুঁকি বেশি যেসব জনগোষ্ঠীতে
গবেষকেরা দেখেছেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তি, নিম্ন আয়ের মানুষ, কম শিক্ষিত ও বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক ব্যাধির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। একইভাবে বিধবা, বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত ও আলাদা বসবাসকারী ব্যক্তিরাও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক রেজা-উর-রহমানের মতে, জরিপের ফলাফল পাকিস্তানে কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ বণ্টনের ভিত্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতা নিয়ে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতেও এসব তথ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক চিকিৎসা যুক্ত করার তাগিদ
পাকিস্তানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গবেষক দল মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে।
গবেষণার ফলাফল বলছে, পাকিস্তানে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক