ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলের জাতীয় রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা সীমিত ছিল। সরকার গঠন কিংবা ক্ষমতাসীন জোটে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে এসব দলের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে মনসুর আব্বাস সেই প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে থেকে আরব নাগরিকদের স্বার্থ আদায়ের কৌশল নিয়েছেন।
তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা হলো, কেবল বিরোধিতা করে নয়, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরব জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
আরব-ইহুদি অংশীদারত্ব গড়ার লক্ষ্যমনসুর আব্বাসের রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর অংশীদারত্ব তৈরি করা। ইসরাইলের সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে অবস্থান নিয়ে তিনি আরব অধ্যুষিত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ক্ষমতার সমীকরণে নিজেদের অবস্থান কাজে লাগিয়ে আরব জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি বাজেট বরাদ্দ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও তার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চাইছেন, জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ আরব নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বাস্তব সুফল বয়ে আনতে পারে।
নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বমনসুর আব্বাসের এই কৌশল ইসরাইলের রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে তার দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে মূলধারার দলগুলোর কাছে তার রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব বাড়ছে।
অন্যদিকে, ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একাংশের কাছে আরব নেতৃত্বের এমন প্রভাব অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে আব্বাসের এই অবস্থান ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা ও ক্ষমতায় অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
তার এই বাস্তববাদী রাজনৈতিক কৌশল আসন্ন নির্বাচন ও সরকার গঠনের আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী ফলাফল, দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা এবং জোট গঠনের পরিস্থিতির ওপর। তবে ইসরাইলের ক্ষমতার রাজনীতিতে আরব নেতৃত্বের অংশগ্রহণের প্রশ্নটি যে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক