ফেনী ইউনিভার্সিটির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, শীর্ষ পদে আওয়ামী লীগ নেতারা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ দুপুর
  • ২০৭৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সভা ও কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ফেনী ইউনিভার্সিটির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে রাখাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সভা আহ্বান, সদস্যদের উপস্থিতি এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সভা ও কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাবের পাম ভিউ রেস্টুরেন্টে ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানটি ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কের র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের বিপরীতে অবস্থিত।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডা ছাড়াই জরুরি সভার কথা জানিয়ে সদস্যদের আমন্ত্রণ করা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ট্রাস্টি বোর্ডের ২১ সদস্যের মধ্যে সাতজন সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তিন সদস্যের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবিত ১৮ সদস্যের মধ্যে অর্ধেকেরও কম সভায় অংশ নেন। আবু কায়ছার আহমেদ নামে আরেক সদস্য অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন।

সরাসরি উপস্থিত সদস্যরা হলেন আবদুস সাত্তার, ব্রিগেডিয়ার (অব.) নাসির উদ্দীন আহমেদ, নুরুল নওয়াজ সেলিম, সাহেদ রেজা, আকরাম হোসেন হুমায়ুন, আলতাফ হোসেন ও প্রকৌশলী ফারুক।

সভা আয়োজন ও কমিটি গঠন নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাস্টি সদস্য অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, একটি গোষ্ঠী কৌশলে নতুন কমিটিতে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং সভার কার্যবিবরণী যাচাই করা জরুরি।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কারা

প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নুরুল নওয়াজ সেলিমকে। সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এ. কে. এম. সাহিদ রেজা। সহসভাপতি করা হয়েছে আবদুর রইছ কাইজারকে এবং বিশেষ পরামর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবদুস সাত্তারকে। ডা. এ. এস. এম. তবারক উল্যাহ চৌধুরী (বায়োজিদ) ও মো. এনায়েত উল্লাহকে তাঁদের আগের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাহেদ রেজাকে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আকরাম হোসেন হুমায়ুনকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কমিটির কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে দলীয় নথি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও অনিয়মের অভিযোগ

ফেনী ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন পায় এবং ২০১৩ সালে ফেনী শহরের বারাহিপুরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য প্রয়াত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী তাঁর পরিবারের প্রায় ১০ থেকে ১১ একর জমি নামমাত্র মূল্যে লিখে দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা আবদুস সাত্তার প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম প্রায় আট বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নাসিম আত্মগোপনে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ব্রিগেডিয়ার (অব.) নাসির উদ্দীন আহমেদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নতুন নেতৃত্বের সময়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম নজরে আসার দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাইয়ের উদ্যোগের পর একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ ও কমিটি গঠনের বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি বা তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।

কমিটি বাতিল ও তদন্তের দাবি

নতুন কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ভূঁইয়ার বাবা সাইফুল ইসলাম দুলাল অভিযোগ করেন, অতীতের অনিয়ম প্রকাশ ঠেকাতে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি কমিটি বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম. কে. এম. আবদুর রহিমও নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, সভার কোরাম, কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ফল প্রকাশ করা হলে বিতর্ক নিরসনে সহায়ক হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad