গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর সাদাপাথরে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুরা ধলাই নদীর স্বচ্ছ পানিতে নেমে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ পাথরের ওপর বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কেউ নদীর তীর থেকে ওপারের ভারতীয় পাহাড়ে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা দেখছেন। অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।
ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা সুমাইয়া আরেফিন বলেন, পরিবারের ছয়জন মিলে সাদাপাথরে এসে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। পাহাড়ের কোলঘেঁষা স্বচ্ছ পানিতে পাথরের ওপর বসে সময় কাটানো তাঁদের কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা। পানিতে নামার পর ভ্রমণের ক্লান্তিও দূর হয়েছে বলে জানান তিনি।
পর্যটকের ভিড়ে চাঙা স্থানীয় ব্যবসাপর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে সাদাপাথর এলাকার স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরেছে। খাবারের হোটেল, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, কাপড় রাখার লকার, বসার চেয়ার ভাড়া এবং ঝালমুড়ি-ফুচকা বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যটকের চাহিদা বাড়ায় এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বিক্রিও বেড়েছে।
নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতাসাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সাদাপাথর নৌকাঘাটের বুথ থেকে দর্শনার্থীদের তথ্য ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। পূজার ছুটি উপলক্ষে পুরো পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
পাহাড়, নদী ও পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক