সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ দুপুর
  • ২২১৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেড়িবাঁধ। বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হলে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। এতে বসতবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ, বন্ধ জিও টিউব স্থাপনের কাজ

স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেড়িবাঁধের জরুরি মেরামতের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থে নদীভাঙন প্রতিরোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্প্রতি কাজ শুরু হলেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজ চলার সময় বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়ে। ফলে আপাতত জিও টিউব স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

নতুন সমীক্ষার প্রয়োজন

পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, নদীভাঙনের কারণে নির্ধারিত স্থানে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর ভাঙন প্রতিরোধে উপযোগী ও টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে।

বসতবাড়ি, মসজিদ ও ফসলি জমি হুমকিতে

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল ও মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের। নদীর প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ফসলি জমি ও চলাচলের সড়ক ঝুঁকিতে পড়েছে।

তাঁদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিশেষ করে ভাঙনকবলিত সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি মেরামত নয়, নদীর স্রোত ও ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বেড়িবাঁধ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দ করা ১৯ লাখ টাকার প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, সময়মতো টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বর্ষায় ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে জনবসতি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad