অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে চৌমুহনী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ দুপুর
  • ৪২৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও জবরদখলের অভিযোগের পাশাপাশি বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও গোলাগুলির ঘটনা। শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক কেনাবেচা, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব হোটেল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।আবাসিক হোটেল ঘিরে নানা অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৌমুহনীর কয়েকটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দেহব্যবসা, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। হোটেলে অবস্থানকারীদের তথ্য নিবন্ধন খাতায় সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠান তা যথাযথভাবে মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের কয়েকটি হোটেলে যাতায়াতের বিষয়টিও স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযান

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে চৌমুহনীর কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী বাজারের ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আট নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। গত ২৫ জুন ‘হোটেল রাজ’ থেকে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া গত ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে তাঁদের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযান শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি ও অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রভাবশালীদের আশ্রয়ের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চৌমুহনীর কয়েকটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কর্মকাণ্ড চলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বৃহত্তর নোয়াখালীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় চৌমুহনীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আসা-যাওয়া করেন। ফলে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁরা আবাসিক হোটেলগুলোর নিবন্ধন, অতিথিদের পরিচয় সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং, মাদক ও অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুলিশের

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, আবাসিক হোটেলগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং অপরাধের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad