বরিশাল নগরীতে প্রিপেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ, প্রথম ধাপে বদলাবে ১ লাখ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ দুপুর
  • ৩০৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg প্রিপেইড মিটার
বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতোমধ্যে নগরীতে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রথম ধাপে এক লাখ গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিস্থাপন করা হবে বাকি ৫০ হাজার মিটার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীতে বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ পোস্টপেইড মিটার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মিটার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রেও প্রিপেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরীর সব গ্রাহককে প্রিপেইড ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমবে বিল তৈরি ও আদায়ের ঝামেলা

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংযোগে প্রিপেইড মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল ছাড়া অন্য এলাকায় পোস্টপেইড মিটার দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে পুরোনো পোস্টপেইড মিটার পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রিপেইড মিটার চালুর ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া, বিল তৈরি ও বিতরণের কাজে সময় ও জনবল ব্যয় কমে। অগ্রিম রিচার্জের মাধ্যমে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ হওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলোর রাজস্ব আদায়ও সহজ হয়। বকেয়া বিল আদায় নিয়ে জটিলতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগে অবৈধ সংযোগ ও মিটার টেম্পারিংয়ের মতো অনিয়ম কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যালান্সের হিসাব দেখে গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, যা অপচয় কমাতে সহায়ক।

খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা দেখছেন গ্রাহকরা

প্রিপেইড মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা পাওয়া যায়। ব্যালান্স কমে গেলে আগেই জানা সম্ভব হওয়ায় গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বিভিন্ন মাধ্যমে রিচার্জের সুযোগ থাকায় বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল পরিশোধের ঝামেলাও কমে।

অন্যদিকে, পোস্টপেইড ব্যবস্থায় মিটার রিডিং, বিল হাতে পাওয়া এবং বিলের পরিমাণ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। প্রিপেইড ব্যবস্থায় এসব সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রাহকদের অসন্তোষ কমাতে প্রিপেইড মিটারের মাসিক অতিরিক্ত চার্জ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।

ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এ ব্যবস্থায় ভৌতিক বিলের সুযোগ নেই এবং বিল বকেয়া রাখারও সুযোগ থাকে না।

তিনি জানান, বরিশাল নগরীতে বর্তমানে দেড় লাখ পোস্টপেইড মিটার রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এক লাখ পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৫০ হাজার মিটারও প্রিপেইড ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপন করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad