মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মরক্কো। সাহসী লড়াই করা হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানারআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দলটি। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড়দের দুটি গোলে জয় নিশ্চিত হয় অ্যাটলাস লায়নদের।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হাইতি। ১০ মিনিটে লেনি জোসেফের দৃষ্টিনন্দন ব্যাক-হিল ফ্লিকে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দেশটি। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম গোল হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয় এই গোল।
গোল হজমের পর মরক্কো একের পর এক আক্রমণ চালালেও হাইতির রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক জনি প্ল্যাসাইড দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে ৩৯ মিনিটে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। বিলাল এল খানুসের ক্রস গোলরক্ষক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরান তিনি।
প্রথমার্ধের নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। ৪৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে আবারও হাইতিকে এগিয়ে দেন উইলসন ইসিডর। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ে হাকিমির নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ম্যাচে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান ইসমাইল সাইবারি। বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করে মরক্কোকে ২-২ সমতায় বিরতিতে পাঠান তিনি।
বিরতির পর পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। বল দখল, আক্রমণ ও সুযোগ সৃষ্টিতে আধিপত্য বিস্তার করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এরই ফল আসে ৭৮ মিনিটে। সৌফিয়ান রাহিমির শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে প্রথমবারের মতো লিড পায় মরক্কো।
পিছিয়ে পড়ার পর হাইতি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ৮৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গেসিম ইয়াসিন গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। তার গোলেই সম্ভাব্য সব অঘটনের আশঙ্কা দূর হয়ে যায়।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ছিল মরক্কোর একচ্ছত্র আধিপত্য। তারা ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রাখে এবং ২২টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে হাইতি মাত্র দুটি শট অন-টার্গেট রাখতে সক্ষম হয়, আর দুটিই গোলে পরিণত করে।
৪-২ গোলের এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মরক্কো। অন্যদিকে সাহসী পারফরম্যান্স উপহার দিলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই শেষ হয়ে গেল হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স