রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে জাতীয় টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে রাজধানীর বনানীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভবন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
শুক্রবার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অভিযানকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবন রক্ষা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা। তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। প্রতি তিন দিন অন্তর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে নাগরিকরা বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এসব ট্যাবলেট যথাযথভাবে ব্যবহার করে জমে থাকা পানিতে লার্ভা ধ্বংসেরও আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সচেতনতামূলক প্রচার আরও জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিতে আহ্বান জানান। একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বাসাবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে, যা নাগরিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযানের সময় বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে পূর্বে সতর্ক করার পরও এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৬৯ ধারায় ভবন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন।
অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক