আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশকারীদেরই বেতন বাড়ানো উচিত: টিআইবি

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ রাত
  • ৩১৬৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর আগে আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, যেসব সরকারি কর্মজীবী প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাঁদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা কাঠামো প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবি এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাঁদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন।

তবে জনগণের করের অর্থে বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মজীবী ও তাঁদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন না, তাঁদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। এ শর্ত বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানি কমানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের জন্য নতুন বেতনস্কেল ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। বিপরীতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে জড়িতদের জন্য ঢালাওভাবে এ সুবিধা দেওয়া অযৌক্তিক।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর আগেও বেতন-ভাতা বাড়ানোর পর দুর্নীতি কমেনি; বরং এর ব্যাপকতা ও গভীরতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেলের প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তখনও সরকারি প্রশাসনকে দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে। এবার তার ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে থাকা স্বল্পআয়ের কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।

বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad