বিশ্বকাপের ফাইনালে যে লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী, সেটিই এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ধাপ আগে। আগামী মঙ্গলবার ডালাসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফুটবলবিশ্বের দুই পরাশক্তির এই মহারণকে ইতোমধ্যেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে অনেক বিশ্লেষকই এগিয়ে রাখছেন। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা শেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই একাধিক গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। পাশাপাশি টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে জার্মানি ও ব্রাজিলের কাতারে নাম লিখিয়েছে ‘লে ব্লু’রা।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার আরও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরাসিরা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজে গোল করার পাশাপাশি ওসমান দেম্বেলের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
বিশ্বরেকর্ড স্পর্শের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ২০। আর মাত্র একটি গোল করলেই লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন এই ফরাসি তারকা। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক গোল করার অসাধারণ রেকর্ডও ধরে রেখেছেন তিনি।
অন্যদিকে স্পেনের সেমিফাইনালের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৬৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখলেও জয় নিশ্চিত করতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৮৮তম মিনিট পর্যন্ত। দীর্ঘ ৬৫০ মিনিট ক্লিনশিট ধরে রাখার রেকর্ডও সেই ম্যাচে ভেঙে যায়।
স্প্যানিশদের অন্যতম ভরসা তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেললেও আগের মতো বিস্ফোরক পারফরম্যান্স দেখা যায়নি তার কাছ থেকে। তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারাতে হলে ইয়ামালকে সেরাটা উজাড় করে দিতেই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কৌশলগত দিক থেকেও ম্যাচটি হতে পারে দারুণ উপভোগ্য। বরাবরের মতো বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ সাজাবে স্পেন। বিপরীতে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবে ফ্রান্স, আর সুযোগ পেলেই এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকে স্প্যানিশ রক্ষণে ঝড় তুলবে। মাঝমাঠে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্লেমেকার মাইকেল ওলিসের সৃজনশীলতা ফ্রান্সকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।
বিশেষ তাৎপর্যও রয়েছে এই ম্যাচের। ১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস ‘বাস্তিল দিবস’। সেই ঐতিহাসিক দিনেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দেশমের দল।
ডালাসের এই সেমিফাইনাল তাই শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই দর্শনের সংঘর্ষ—স্পেনের বল দখলের নান্দনিকতা বনাম ফ্রান্সের গতি, শক্তি ও নিখুঁত কাউন্টার আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত কারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, তার উত্তর মিলবে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণেই।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স