ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি গতি, কৌশল, শারীরিক সামর্থ্য ও ফুটবল দর্শনের এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক, দারুণ গতি এবং শারীরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে দিদিয়ের দেশমের দল। টানা ছয় ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠা ফরাসিদের লক্ষ্য এখন টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। ব্রাজিল ও জার্মানির পর তৃতীয় দল হিসেবে এমন কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। বল দখলে রেখে নিখুঁত পাসিং ও আধুনিক টিকিটাকা ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাদের প্রধান শক্তি। দলগত সমন্বয়, ধৈর্য এবং কৌশলী ফুটবলের কারণে এবারের আসরে অন্যতম পরিণত দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে স্প্যানিশরা।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সমতায় রয়েছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও পরে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। সেই ম্যাচে গোড়ালিতে হালকা চোট পেলেও সেমিফাইনালে পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেললেও ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে আগের টুর্নামেন্টগুলোতেও গোল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইয়ামালের। এছাড়া চার গোল করা ওয়ারজাবালও স্পেনের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
দুই দলের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের লড়াইও হতে যাচ্ছে জমজমাট। ফ্রান্স যেখানে গতিময় ফুটবল ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করতে চায়, সেখানে স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্য ও নিখুঁত পাসিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে অভ্যস্ত।
ইতিহাসও বলছে, ফ্রান্স-স্পেন লড়াই বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ৩৮টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮টি, ফ্রান্স ১৩টি এবং ড্র হয়েছে ৭টি ম্যাচ।
সাম্প্রতিক দেখায়ও এগিয়ে স্পেন। ২০২৫ সালের জুনে নেশনস কাপের ফাইনালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল তারা। এর আগে উয়েফা ইউরোর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্প্যানিশরা। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পুনর্মিলনী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আজকের ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এখন দেখার বিষয়, গতিময় ফ্রান্স কি আরেকটি ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়, নাকি কৌশলী ফুটবলে স্পেন ফিরিয়ে আনে তাদের হারানো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স