মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিক ও দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুমিল্লায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ। কুমিল্লাও হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ। যুগে যুগে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও সচেতন জনগণের কারণে তারা কখনো সফল হতে পারেনি।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় সফল হবে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে যেমন একসঙ্গে বসবাস করেছেন, তেমনি আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়কে সমর্থন করে না। সব ধর্মই মানুষকে ন্যায়, শান্তি, মানবকল্যাণ এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মকে বিভেদের হাতিয়ার নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
রথযাত্রা অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিপুল উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করে। তিনি সবাইকে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম-সেবা), কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক ভক্ত।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক