বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন বিশ্লেষণ: পজেশন-প্রেসিংয়ের অপ্রতিরোধ্য শক্তি, তবে রদ্রিই সবচেয়ে বড় নির্ভরতা

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ দুপুর
  • ১৩৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আধুনিক ফুটবলে বল দখল, দ্রুত পাসিং ও তীব্র প্রেসিংয়ের সমন্বয়ে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ঐতিহ্যবাহী ‘টিকি-টাকা’ দর্শনের সঙ্গে গতি, সরাসরি আক্রমণ এবং উচ্চমাত্রার প্রেসিং যুক্ত হয়ে লা রোজাদের টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে স্পেনের গড় বল দখলের হার সর্বোচ্চ—৬৩.৮৬ শতাংশ। শুধু বলের নিয়ন্ত্রণই নয়, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি বল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও তারা সবার শীর্ষে। বল রিকভারিতে তাদের সাফল্যের হার ৬৮.১৮ শতাংশ, যা তাদের আগ্রাসী প্রেসিংয়ের কার্যকারিতা স্পষ্ট করে।

স্পেনের আরেকটি বড় শক্তি তাদের হাই-লাইন ডিফেন্স। ডিফেন্ডাররা মাঝমাঠের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের তৃতীয় অংশেই সবচেয়ে বেশি—৪০ বার বল পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন। এই কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষ স্বাভাবিকভাবে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ খুব কমই পেয়েছে।

রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসি শুধু ডিফেন্ডার নন, নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ কারিগর। তাদের নিখুঁত পাসিং স্পেনের আক্রমণের ভিত্তি তৈরি করে।

তবে এই সুসংগঠিত ব্যবস্থার মাঝেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা। পুরো দলের ছন্দ অনেকটাই নির্ভর করে মিডফিল্ডার রদ্রির ওপর। তিনি মাঝমাঠে বলের গতি, দিক ও নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখেন। প্রতিপক্ষ যদি রদ্রিকে কার্যকরভাবে ম্যান-মার্কিং করে কিংবা তার পাসিং লেন বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে স্পেনের পুরো খেলার ছন্দ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া স্পেনের ফুল-ব্যাকরা নিয়মিত আক্রমণে উঠে যাওয়ায় এবং ডিফেন্স লাইন অনেক ওপরে অবস্থান করায় বল হারালে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের বিপক্ষে তারা ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে গতিময় উইঙ্গারসমৃদ্ধ দলগুলো স্পেনের ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।

লুইস দে লা ফুয়েন্তে মূলত ৪-৩-৩ কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-২-৪ ফর্মেশনে দল সাজান। তার কৌশলের মূল ভিত্তি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণ তৈরি করা। আগের স্পেনের তুলনায় বর্তমান দলটি অনেক বেশি সরাসরি আক্রমণ করে। উইঙ্গাররা এক-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করে দ্রুত ক্রস কিংবা শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, আর মাঝমাঠে অতিরিক্ত খেলোয়াড় রেখে বলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

আক্রমণে স্পেনের প্রধান ভরসা রদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল এবং মিকেল মেরিনো। রদ্রি নিচ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, দানি ওলমো প্রতিপক্ষের মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের মাঝের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারদর্শী। অন্যদিকে মিকেল মেরিনোর বক্সে আকস্মিক ঢুকে পড়া আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

সামনের সারিতে মিকেল ওইয়ারজাবাল কিংবা ফেরান তোরেস ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলেন। তারা নিয়মিত নিচে নেমে এসে প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাকদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করেন। ফলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে লামিনে ইয়ামাল কিংবা দানি ওলমো দ্রুত বক্সে প্রবেশের সুযোগ পান।

সব মিলিয়ে বর্তমান স্পেন একটি সুসমন্বিত ইউনিট হিসেবে খেলছে। পজেশন, প্রেসিং এবং দ্রুত আক্রমণের সমন্বয়ে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তাদের এই সফল কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু রদ্রি। তাকে নিষ্ক্রিয় করতে পারলে স্পেনের খেলার ছন্দ ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য একাদশ

উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারজাবাল।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad