শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষক তাঁদের প্রাপ্য অবসর ভাতা ও অন্যান্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে আয়োজিত ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক এক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৫ আগস্ট পালনের নামে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বিভিন্ন খাত থেকেও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রয়োজন ও মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ সব খাতের উন্নয়নে সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সমালোচনা না করে সবাইকে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেশের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁরা দিনরাত কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক মহাপরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক