বুধবার বিকেলে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সংঘর্ষের আশঙ্কায় পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিকেলে আকবর হোসেনের পক্ষের নেতাকর্মীরা আতাতুর্ক স্কুল মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় ফটিকপন্থী নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে ধাওয়া করেন এবং বোতল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় অপর পক্ষ থেকে জুতা ছোড়া হলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষ পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে সংবাদকর্মী সাখাওয়াত হোসেন টিপু ও ফখরুল ইসলামসহ আকবরপন্থী ৩৫ থেকে ৪০ জন এবং ফটিকপন্থী ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে।
সাবেক জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক বলেন, র্যালি নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ হামলা চালালে তার পক্ষের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। সংঘর্ষে নাইমুর রহমান, রিয়াজ, হুমায়ুন আহমদ, রাব্বি ও রায়হানসহ তার পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহত রাব্বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় বহিষ্কৃত ফটিকের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার স্ত্রী ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহিন আকবর, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল সুজন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মানিক, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নিজাম হায়দার এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক এম সাইফুল ইসলাম দুলালসহ ৩৫ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স