স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে তরুণদের প্রকৃতির কাছে ফেরাতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ রাত
  • ২৯০৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে তাদের প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিনা মূল্যে প্রবেশ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু ভালো হওয়ার পরামর্শ বা নির্দেশনা দিলেই তরুণদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের বড় একটি অংশ বর্তমানে মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। তাদের কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চিড়িয়াখানাকেন্দ্রিক এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভাল্লুক, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণী সরাসরি দেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করবে। অনেক শিক্ষার্থী এসব প্রাণী অনলাইনে দেখলেও বাস্তবে দেখার সুযোগ পায় না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে যেতে পারেন না।

এ কারণে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় জনপ্রতি প্রবেশমূল্য প্রায় ৭০ টাকা। নতুন কর্মসূচির জন্য আপাতত কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা বিবেচ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য বিনিয়োগ।

কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকতার বিস্তারের সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহারও বাড়ছে। এতে মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষিজমিতে প্লাস্টিক জমে মাটির উর্বরতা ও চাষাবাদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে সমুদ্রে গিয়ে প্লাস্টিক মাছ, সামুদ্রিক পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক থেকে উৎপন্ন মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্নভাবে মানবদেহে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ব্যবহৃত প্লাস্টিক যাতে পরিবেশ দূষণ না করে, সে জন্য বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমঝোতা হলে সংগৃহীত প্লাস্টিক সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করে রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আনা হবে।

তরুণদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নিতে অন্যান্য বিনোদন ও প্রকৃতিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

উদ্বোধনী দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী ১০০ গ্রাম করে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ পায়। পরে তাদের প্রত্যেককে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad