মুখের ক্ষতিকর জীবাণু ঠেকাতে যেসব খাবার উপকারী

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ দুপুর
  • ২৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমানোর পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, চা, রসুন, পনির ও কিছু গাঁজানো খাবার মুখের উপকারী জীবাণুসমাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মুখের ভেতরে প্রায় ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি থাকে ভাইরাস, ছত্রাকসহ নানা অণুজীব। এদের সম্মিলিত জীবাণুসমাজের কিছু সদস্য ক্ষতিকর হলেও অনেক ব্যাকটেরিয়া মুখকে রোগজীবাণু থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। ফলে উপকারী ও ক্ষতিকর জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিনি যেভাবে দাঁতের ক্ষতি করে

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউটান্স অন্যতম। দাঁতের পৃষ্ঠে থাকা এই ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে অ্যাসিড তৈরি করে। ওই অ্যাসিড দাঁতের শক্ত আবরণ ক্ষয় করে একপর্যায়ে গর্ত তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ভেইলনেলা, অ্যাক্টিনোমাইসিস, স্ট্রেপ্টোকক্কাসের কিছু প্রজাতি এবং নেইসেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে সহায়তা করে।

নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে এমন পকেট তৈরি হতে পারে, যেখানে অক্সিজেন কম থাকে। এই পরিবেশে পোরফাইরোমোনাস জিনজিভালিসের মতো ব্যাকটেরিয়া বেড়ে মাড়ির রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ জীবাণুর সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আলঝেইমার রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্কও গবেষণায় পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় মুখের জীবাণুসমাজের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে বৃহদান্ত্র ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়েও অনুসন্ধান হয়েছে।

খাবারের ভূমিকা

মুখের জীবাণুরাও মানুষের খাওয়া খাবার থেকেই পুষ্টি পায়। তাই খাদ্যাভ্যাস মুখে কোন জীবাণু টিকে থাকবে এবং কোনটি বাড়বে, তা প্রভাবিত করতে পারে।

চিনি ও সহজে গাঁজনযোগ্য পরিশোধিত শর্করা বেশি খেলে অ্যাসিড উৎপাদনকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে। সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, ক্র্যাকার ও প্রেটজেলের মতো খাবার তাই সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে উদ্ভিদজাত খাবার, আঁশ ও জটিল শর্করায় সমৃদ্ধ খাদ্য মুখের জীবাণুসমাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

শাকসবজি ও ফল

কেল, পালংশাক, বিট ও মূলার মতো পাতাযুক্ত সবজি ও শাকসবজিতে নাইট্রেট থাকে। মুখের নেইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রেট ব্যবহার করে নাইট্রাইট তৈরি করে, যা পরবর্তী পর্যায়ে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালি প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

রসুনেও এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে, যা দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে রসুন চিবিয়ে খেলে সাময়িকভাবে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে।

উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা পলিফেনলও মুখের জন্য উপকারী হতে পারে। চায়ে থাকা পলিফেনল দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে পারে। একই সঙ্গে এসব জীবাণু যাতে দাঁতের গায়ে জমাট বেঁধে আস্তরণ তৈরি করতে না পারে, তাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

গাঢ় রঙের বেরিসহ বিভিন্ন ফলে প্রচুর পলিফেনল রয়েছে। ক্র্যানবেরির রস নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি দাঁতের ওপর জীবাণুর আস্তরণ তৈরি এবং দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে পারে।

পনির ও গাঁজানো খাবার

পনির চিবিয়ে খাওয়াও মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক দিন নিয়মিত গ্রানা পাদানো পনির খাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের মুখের ব্যাকটেরিয়ার গঠনে সামান্য পরিবর্তন আসে। দাঁতের ক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত এস. মিউটান্স কমে এবং সুস্থ মুখে বেশি পাওয়া যায় এমন এস. স্যাঙ্গুইনিসের পরিমাণ বাড়ে।

পনির চিবানোর সময় বেশি লালা তৈরি হয়। লালা মুখের অতিরিক্ত চিনি সরাতে এবং অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।

কেফিরের মতো গাঁজানো দুধের পানীয়ও কিছু ক্ষতিকর মুখের জীবাণুর কার্যক্রম কমাতে এবং তাদের আঠালো জীবাণুস্তর তৈরি ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।

একটি খাবারই সমাধান নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো একক ‘সুপারফুড’ নেই। বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সবজি, পূর্ণাঙ্গ ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্যসহ উদ্ভিদজাত খাবার বেশি খাওয়া এবং পরিশোধিত চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয় কমানো উপকারী। ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের মাড়ির রোগ তুলনামূলক কম গুরুতর হওয়ার তথ্যও একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে।

দাঁত পরিষ্কার রাখাও জরুরি

স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করাও জরুরি। গবেষণায় দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারের সঙ্গে ক্ষতিকর এস. মিউটান্সের কম ঘনত্বের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখলেও মুখের রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু কমে।

তবে জীবাণুনাশক মাউথওয়াশ নিয়মিত ব্যবহারে মুখের উপকারী ও ক্ষতিকর জীবাণুর ভারসাম্যে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ক্লোরহেক্সিডিনযুক্ত কিছু মাউথওয়াশ মুখের জীবাণুসমাজের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। যদিও মাড়ির রোগ ও কিছু মুখের সমস্যার চিকিৎসায় স্বল্পমেয়াদে এগুলো উপকারী হতে পারে।

সব মিলিয়ে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি শাকসবজি, পূর্ণাঙ্গ ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্য খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয় কমানো মুখের উপকারী জীবাণুসমাজের ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad