ভুক্তভোগী শিশুটির নাম জায়ান ইসলাম। সে রফিকুল ইসলামের ছেলে।
পরিবারের ভাষ্য, গত ২৭ জুলাই ১০ মাস বয়সে দেওয়ার নির্ধারিত টিকা দিতে জায়ানকে রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের আইয়েনগর পোদ্দার বাড়ির টিকাদান কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়মিত টিকা প্রদানকারী শারমিন আক্তার শিশুটির ডান পায়ে হাঁটুর কিছুটা নিচে টিকা দেন।
এরপর শিশুটির ওই পায়ে ফোঁড়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। বিষয়টি টিকাদানকর্মীকে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি বলে দাবি স্বজনদের। উল্টো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। টিকাদানকর্মীর স্বামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত—এমন কথা বলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
শিশুটির দাদি রেহানা আক্তার বলেন, টিকা দেওয়ার পর নাতির পায়ে জটিলতা দেখা দিলে তারা বিষয়টি শারমিন আক্তারকে জানান। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু বিচার চান।
অভিযোগের বিষয়ে টিকাদানকর্মী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ভুল হতেই পারে, মানুষ ভুল করে না? হাজারো ডাক্তার ভুল করে রোগী মারা যায়, কই কিছু তো হয় না। তাহলে আমার বিষয়টা নিয়ে এত মাতামাতি কেন?’
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। শিশুটির পরিবারকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে শিশুটিকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
ভুল জায়গায় টিকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শারমিন আক্তার অনেক শিশুকে টিকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুল হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, শিশুটির পরিবার ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করার পর বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির পরিবার একটি আবেদন করেছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক