জলবায়ু অর্থায়নে ২৫ সদস্যের জাতীয় কমিটি, সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ বিকাল
  • ২১৯৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোর আওতায় আনতে ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ (ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স—এনসিসিএফ) গঠন করেছে সরকার। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।

বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে। মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প, বাণিজ্য, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, নৌপরিবহন, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য।

জাতীয় নীতি ও কৌশল নির্ধারণ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে।

প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল ৬সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেবে কমিটি। দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আর্টিকেল ৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও তদারক করবে।

বাস্তবায়নে আলাদা কমিটি

জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ৩২ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি’ও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে। ড. মো. সাইমুম পারভেজ থাকবেন সদস্য হিসেবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

বাস্তবায়ন কমিটি জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ করবে।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আকর্ষণের লক্ষ্য

জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য জাতীয় কমিটি গঠন আরও সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগ জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ট্রেডিংয়ে বাংলাদেশের পথচলায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আকর্ষণ, উচ্চমানের কার্বন ক্রেডিট সৃষ্টি এবং এর সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সাইমুম পারভেজ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে। যথাযথ নীতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ট্রেডিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

নবগঠিত জাতীয় কমিটি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান নীতি-কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কর্মসূচির অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।

এ ছাড়া জাতীয় কমিটি বাস্তবায়ন ও কারিগরি কমিটির কার্যক্রম তদারক, প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় নীতিগত জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনেও সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কমিটির সভা বছরে অন্তত দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই কমিটির কার্যক্রম কার্যকর হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad