বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্রোকের আদেশ দেওয়া জমিগুলোর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর ১৪টি ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯৫ টাকা। তবে দুটি গাড়ির মূল্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা প্রিন্সের জমি ও গাড়ি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স অবৈধ ও অসৎ উপায়ে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন।
এ ছাড়া নিজের নামে থাকা ৩৬টি ব্যাংক হিসাবে ২১২ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০ টাকা জমা এবং ২১২ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৭ টাকা উত্তোলন করেন। এসব হিসাবে মোট ৪২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, এসব লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও ঘুষের অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং অপরাধের আওতাভুক্ত। এ অভিযোগে প্রিন্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পায়, আসামি তার নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তান্তর হলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত প্রিন্সের সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স