ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি: বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে নদীতে ফেলার অভিযোগ জিয়াউলের বিরুদ্ধে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ দুপুর
  • ২৭৬৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বরগুনার বলেশ্বরী নদীতে ২০১০ সালের দিকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা বন্দিদের গুলি করে হত্যার পর পেটে কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন বোটের মাঝি আব্বাস উদ্দিন। এ ঘটনায় তিনি সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস উদ্দিন।

জবানবন্দিতে ৬০ বছর বয়সী আব্বাস উদ্দিন বলেন, তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি জানান, ২০১০ সালে র‌্যাব চরদুয়ানী ও কাঠালতলী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করত। অভিযান পরিচালনার জন্য র‌্যাব সদস্যরা বোট মালিকদের ট্রলার বা বোট দিতে বলতেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, র‌্যাব সদস্যরা এলাকায় আসার দিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুজন সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ এবং বাতি নিভিয়ে রাখতে বলতেন। রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চার-পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা বন্দিদের বোটে তোলা হতো। তাদের হাত ও চোখ বাঁধা থাকত।

আব্বাস বলেন, বন্দিদের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা ও রশি নেওয়া হতো। এরপর তাদের বোট চালিয়ে চরদুয়ানী হয়ে বলেশ্বরী নদীর গভীর অংশে যেতে বলা হতো। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর গভীর পানিতে পৌঁছে বোট ধীরগতিতে চালাতে বলা হতো।

সাক্ষীর দাবি, গভীর পানিতে যাওয়ার পর বন্দিদের বোটের ভেতর থেকে বের করে আনা হতো। বোটের দুই পাশে থাকা ‘সাপোর্ট’-এর ওপর একজন বন্দিকে বসিয়ে দুই র‌্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর ‘জিয়া স্যার’ বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন। কোনো বন্দিকে একবার, আবার কাউকে দুবার গুলি করা হতো বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্বাসের ভাষ্য, গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, এভাবে কয়েকজনকে হত্যার পর তারা সুন্দরবনের দিকে যেতেন। সেখানে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হতো। পরে র‌্যাব সাংবাদিকদের ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকত এবং লাশ বিভিন্ন থানায় জমা দিত।

সাক্ষী জানান, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়ার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মগজ বেরিয়ে আসত এবং শরীর থেকে রক্ত ঝরত। এ কারণে সুন্দরবন থেকে ফেরার পর বোট ধুয়ে পরিষ্কার করতে হতো।

জবানবন্দিতে আব্বাস উদ্দিন আরও বলেন, পরে মেজর সাব্বির তাদের ডেকে বলতেন, ‘জিয়া স্যার তোমাদের ডাকছেন।’ তারা জিয়াউল আহসানের কাছে গেলে প্রত্যেককে কখনো দুই হাজার, আবার কখনো পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হতো। টাকা খামে করে দেওয়া হতো বলে জানান তিনি।

নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধান মেলেনি

আব্বাস উদ্দিন জানান, তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকও র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। ২০১১ সালের কোনো একদিন র‌্যাবের পরিচয়ে ফোন করে আলকাছকে বটতলা-মানিকখালী এলাকায় ‘জিয়া স্যারের’ সঙ্গে দেখা করতে যেতে বলা হয়।

আব্বাসের দাবি, র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলকাছ বাজারে আলোচনা করতেন। এ কারণে অন্য বোট মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলতেন, র‌্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, ওই দিন দুপুরে ভাত খেয়ে আলকাছ বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টার দিকে তার স্ত্রী ফোন করে জানান, র‌্যাবের ফোন পেয়ে আলকাছ বটতলা-মানিকখালীতে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‌্যাব অফিসেও আলকাছের সন্ধান করা হয়। কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

আব্বাসের অভিযোগ, জিডিতে জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের নাম উল্লেখ করতে বলা হলেও পুলিশ তা নেয়নি।

জবানবন্দির শেষে আব্বাস উদ্দিন বলেন, তিনি তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিচার চান। তিনি দাবি করেন, ওই সময় তিনি জিয়াউল আহসানকে দেখেছেন এবং বর্তমানে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত রয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad