বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, টাকার বিনিময়ে একটি চাকরিও দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে অতীতে বিতর্ক ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলেও এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নানা জটিলতায় প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি নিয়োগের বিপরীতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
নবনিযুক্ত কর্মচারী জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার ও মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, এর আগে তারা পাঁচ থেকে সাতবার ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিয়েও চাকরি পাননি। এবার কোনো তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। কর্মজীবনে সততার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের ভাষ্য, চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কারও কাছে তাদের তদবির করতে হয়নি।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার বলেন, কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াও সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব—নবনিযুক্ত তরুণ-তরুণীরা তার প্রমাণ। যারা চাকরি পেয়েছেন, তারাই জানেন কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, তিনি কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। বরিশালে যোগদানের পর থেকে বিভাগটির বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর দাবি, এসব নিয়োগে অর্থ লেনদেনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ও সুফল এই নিয়োগপ্রাপ্তরা বাস্তবে পেয়েছেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা দেশ ও মানুষের সেবা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক